ক্যাপাসিটর কি?
ক্যাপাসিটর হল একটি ইলেকট্রনিক উপাদান যা বৈদ্যুতিক চার্জ সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এটি বৈদ্যুতিক সার্কিটে এনার্জি সংরক্ষণ, ফিল্টারিং, এবং ভোল্টেজ স্থিতিশীল করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ক্যাপাসিটর দুটি পরিবাহী প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত, যা একে অপরের থেকে ইনস্যুলেটর বা ডাইইলেকট্রিক ম্যাটেরিয়াল দিয়ে আলাদা থাকে। এই ডাইইলেকট্রিক ম্যাটেরিয়াল ক্যাপাসিটরের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এবং এটি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে।
ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স (CC) মাপা হয় ফ্যারাড (Farad) এককে। এটি সাধারণত পিকোফ্যারাড (pF), ন্যানোফ্যারাড (nF), বা মাইক্রোফ্যারাড (µF) হিসেবে প্রকাশিত হয়।
ক্যাপাসিটরের প্রকারভেদ
ক্যাপাসিটরের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে এবং এগুলোর প্রকারভেদ নির্ভর করে এর নির্মাণের উপাদান, কাঠামো এবং ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্যের উপর। নিচে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপাসিটরের বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. সিরামিক ক্যাপাসিটর (Ceramic Capacitor)
- বৈশিষ্ট্য: সিরামিক ক্যাপাসিটর সাধারণত ছোট আকৃতির হয় এবং উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাপ্লিকেশন এবং ফিল্টারিংয়ে ব্যবহৃত হয়। এর ডাইইলেকট্রিক হিসেবে সিরামিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
- ব্যবহার: রেডিও, মোবাইল ফোন, এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ফিল্টারিং এবং ডিকাপলিংয়ের জন্য।
- প্রকারভেদ: সিরামিক ক্যাপাসিটরগুলোর সাধারণ প্রকারভেদ হলো ক্লাস ১ এবং ক্লাস ২ সিরামিক ক্যাপাসিটর। ক্লাস ১ ক্যাপাসিটর তাপমাত্রা এবং ভোল্টেজের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে স্থিতিশীল, এবং ক্লাস ২ ক্যাপাসিটর সাধারণত বড় আকারে ক্যাপাসিট্যান্স প্রদান করে।
২. ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (Electrolytic Capacitor)
- বৈশিষ্ট্য: ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর তুলনামূলকভাবে বেশি ক্যাপাসিট্যান্স ধারণ করে এবং সাধারনত ডিসি (DC) সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। এটি পোলারাইজড (ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্তযুক্ত) ক্যাপাসিটর।
- ব্যবহার: পাওয়ার সাপ্লাই সার্কিটে ফিল্টারিং এবং ভোল্টেজ রেগুলেশন।
- প্রকারভেদ: অ্যালুমিনিয়াম এবং ট্যানটালাম ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর। ট্যানটালাম ক্যাপাসিটর বেশ স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য, তবে এটি তুলনামূলকভাবে খরচবহুল।
৩. ফিল্ম ক্যাপাসিটর (Film Capacitor)
- বৈশিষ্ট্য: ফিল্ম ক্যাপাসিটর খুবই নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর ডাইইলেকট্রিক হিসেবে প্লাস্টিক ফিল্ম ব্যবহৃত হয়।
- ব্যবহার: অডিও সার্কিট, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাপ্লিকেশনে।
- প্রকারভেদ: পলিয়েস্টার, পলিপ্রোপিলিন, এবং পলিকার্বোনেট ফিল্ম ক্যাপাসিটর। পলিপ্রোপিলিন ক্যাপাসিটর বেশি স্থিতিশীল এবং কম তাপমাত্রার কো-এফিসিয়েন্ট থাকে।
৪. মাইকা ক্যাপাসিটর (Mica Capacitor)
- বৈশিষ্ট্য: মাইকা ক্যাপাসিটরগুলো খুবই স্থিতিশীল এবং সঠিক ক্যাপাসিট্যান্স প্রদান করে, বিশেষত উচ্চ-ভোল্টেজ অ্যাপ্লিকেশনে।
- ব্যবহার: রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) সার্কিট এবং পাওয়ার ট্রান্সমিশন।
- প্রকারভেদ: সাধারণত দুটি প্রকারের মাইকা ক্যাপাসিটর রয়েছে - ন্যাচারাল এবং সিন্থেটিক। ন্যাচারাল মাইকা ক্যাপাসিটর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুল হয়।
৫. সুপার ক্যাপাসিটর (Super Capacitor)
- বৈশিষ্ট্য: সুপার ক্যাপাসিটরগুলো অত্যন্ত বেশি ক্যাপাসিট্যান্স ধারণ করতে পারে এবং দ্রুত চার্জ ও ডিসচার্জ হয়। তবে এগুলো ব্যাটারির মত বেশি সময় ধরে চার্জ সংরক্ষণ করতে সক্ষম নয়।
- ব্যবহার: পুনরুদ্ধারযোগ্য শক্তি সিস্টেম, যেমন হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক যানবাহন।
- প্রকারভেদ: সুপার ক্যাপাসিটরের প্রকারভেদ অন্তর্ভুক্ত ডবল লেয়ার ক্যাপাসিটর এবং পসুডো-ক্যাপাসিটর, যা যথাক্রমে শারীরিক ও রাসায়নিক ভাবে শক্তি সংরক্ষণ করে।
৬. পেপার ক্যাপাসিটর (Paper Capacitor)
- বৈশিষ্ট্য: পেপার ক্যাপাসিটর সাধারণত পলারিটি নির্ধারণের প্রয়োজন হয় না এবং এর ডাইইলেকট্রিক হিসেবে কাগজ ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলো বেশ পুরোনো এবং কম কার্যকরী।
- ব্যবহার: পুরোনো রেডিও এবং অডিও সরঞ্জাম।
- প্রকারভেদ: ওয়্যাক্স-পেপার এবং ইম্প্রেগনেটেড পেপার ক্যাপাসিটর, যা কাগজে ওয়্যাক্স বা অয়েল প্রয়োগ করে নির্মিত হয়।
সারসংক্ষেপ
ক্যাপাসিটরের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে এবং তাদের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার ক্ষেত্র অনুসারে আলাদা হয়। সিরামিক ক্যাপাসিটর সাধারণত কম ক্যাপাসিট্যান্স সরবরাহ করে, ফিল্ম ক্যাপাসিটর খুবই নির্ভরযোগ্য এবং ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর উচ্চ ক্যাপাসিট্যান্স সহ পাওয়ার সাপ্লাই সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। সুপার ক্যাপাসিটর দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এই প্রকারভেদ অনুযায়ী ক্যাপাসিটরগুলো বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স সার্কিটে ব্যবহার করা হয় এবং তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্বাচন করা হয়।
Read more